দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমার কর্মকারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপাচার্য বলেন, প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই দুই কমিটি তাঁকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, উচ্চতর কমিটিতে প্রভাস কুমারের একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি। তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে লিখিতভাবে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তির সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে। ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে ওই শিক্ষার্থী তাঁর চেম্বারে যান।
অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন শিক্ষক। এ সময় ছবি তুলতে নিষেধ করার পাশাপাশি তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে অশোভনভাবে স্পর্শ এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার বিচার চেয়ে একই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। অভিযোগ তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর অধিকতর তদন্ত করা হয়।
পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রভাস কুমারকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরবর্তী তদন্ত ও উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবার তাঁকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।
এমএস/